সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্ত্রী’র মনে অকারণে আঘাত দেওয়ার পরিণাম

ইসলামিক দৃষ্টিতে ভয়াবহ বাস্তবতা :

অনেক স্বামী মনে করেন, “স্ত্রী তো নিজের মানুষ, একটু কঠিন কথা বললে সমস্যা কী?” কিন্তু ইসলাম এই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখেছে।

কারণ, দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু সামাজিক বন্ধন নয়, এটি একটি আমানত, যার জবাবদিহি আল্লাহর কাছেই করতে হবে।

 ☞  স্ত্রী আল্লাহর দেওয়া আমানত :

ইসলামে স্ত্রীকে স্বামীর অধীন কোনো বস্তু বলা হয়নি; বরং তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া দায়িত্ব ও আমানত বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি এই আমানতের হৃদয় ভাঙে, সে আসলে আল্লাহর দেওয়া দায়িত্বে অবহেলা করে।

 ☞ স্ত্রীর প্রতি কঠোর আচরণ গুনাহের কারণ :

রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।”

অর্থাৎ স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ একজন মানুষের ঈমান ও চরিত্রের দুর্বলতার পরিচয়।

  ☞ স্ত্রীর অভিযোগ আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায় :

একজন কষ্ট পাওয়া স্ত্রীর দীর্ঘশ্বাস বা চোখের পানি অবহেলা করার বিষয় নয়।

ইসলামে মজলুমের দোয়া (যার উপর জুলুম করা হয়েছে) সরাসরি আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায় — সেখানে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ব্যতিক্রম নয়।

 ☞ অন্যায় আচরণের হিসাব কিয়ামতে দিতে হবে :

কিয়ামতের দিন শুধু নামাজ-রোজার হিসাব হবে না; মানুষের অধিকার নষ্ট করার হিসাবও দিতে হবে।

স্ত্রীর মনে অকারণে কষ্ট দিলে সেটি হক্কুল ইবাদ, যা ক্ষমা না করলে আল্লাহও ক্ষমা করেন না।

 ☞ ভালোবাসার বদলে ভয় তৈরি হলে সংসারে বরকত হারায় :

ইসলাম দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি করেছে মহব্বত ও রহমত (ভালোবাসা ও দয়া)। যেখানে অপমান ও কষ্ট থাকে, সেখানে বরকত ধীরে ধীরে উঠে যায়।

 ☞ স্ত্রীর নীরবতা সন্তুষ্টির লক্ষণ নয় :

অনেক স্ত্রী সংসার বাঁচানোর জন্য চুপ থাকে। ইসলাম এই নীরবতাকে অনুমোদন নয়, বরং ধৈর্য হিসেবে দেখে। কিন্তু ধৈর্যের সুযোগ নিয়ে কষ্ট দেওয়া জুলুমের অন্তর্ভুক্ত।

 ☞ স্ত্রীর অধিকার নষ্ট করা বড় অন্যায় :

খাবার, পোশাক বা বাসস্থান দেওয়াই দায়িত্বের শেষ নয়। সম্মান, কোমল ভাষা ও মানসিক নিরাপত্তা দেওয়াও ইসলামে স্বামীর ফরজ দায়িত্বের অংশ।

 ☞ একজন সুখী স্ত্রী ইবাদতের সওয়াবের কারণ :

যে স্বামী স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটায়, তার প্রতি দয়া করে, তাকে সম্মান দেয় — সে শুধু ভালো মানুষ নয়, আল্লাহর কাছেও প্রিয় বান্দা হয়ে ওঠে।

 ☞  মনে রাখবেন—

স্ত্রীর অভিযোগ কোনো ঝগড়ার কথা নয়; এটি অনেক সময় তার ভাঙা হৃদয়ের শেষ ভাষা। যেদিন স্ত্রী অভিযোগ করা বন্ধ করে দেয়, সেদিন বুঝতে হবে সম্পর্কের উষ্ণতা নিঃশেষ হতে শুরু করেছে।

 ☞ আজ থেকেই নিজেকে প্রশ্ন করুন—

আমি কি আমার স্ত্রীর জন্য রহমত, নাকি তার কষ্টের কারণ? কারণ, পৃথিবীতে দেওয়া কষ্ট হয়তো ভুলে যাওয়া যায়, কিন্তু আল্লাহর আদালতে কোনো অনুভূতির বিচার হারিয়ে যায় না।

পরিশেষে:

💌 স্ত্রীকে সম্মান করুন। এতে সংসারও বাঁচে, আখিরাতও সুন্দর হয়। 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় লিপি

কথা বলার ক্ষুধা, সেক্সের চেয়েও আদিম চাহিদা

আপনার সঙ্গী কি আপনার সাথে শোয়, কিন্তু কথা বলে না? তাহলে অভিনন্দন, আপনি এক জীবন্ত লাশের সাথে বসবাস করছেন। কী? statement টা শুনেই আপনার শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো? মনে হচ্ছে, আপনার ব্যক্তিগত জীবনে কেউ নোংরাভাবে উঁকি মারছে? নিজের ভালোবাসার সম্পর্কটাকে এতটা কদর্যভাবে আক্রমণ করায় লেখকের গলা টিপে ধরতে ইচ্ছে করছে? করুন। আপনার সব ক্ষোভ, সব অপমান আমি মাথা পেতে নিচ্ছি। কিন্তু এই লেখাটি যদি আপনার ভেতরের সেই ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিটাকে জাগিয়ে তুলতে না পারে, যদি আপনার সাজানো-গোছানো সম্পর্কের মিথ্যার দেওয়ালটা কাঁপিয়ে দিতে না পারে, তবে বুঝবেন আমার কলম ধরাটাই বৃথা। আমরা এক অদ্ভুত ডিজিটাল কসাইখানায় বাস করি, যেখানে আমরা সম্পর্কগুলোকে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার দিয়ে ওজন করি। আমরা একে অপরের শরীর চিনি, কিন্তু আত্মাটাকে চিনি না। আমরা একসাথে ডিনার করি, কিন্তু কথা বলি ফোনের স্ক্রিনের সাথে। আমরা একসাথে বিছানায় যাই, কিন্তু আমাদের মন ঘুরে বেড়ায় ভার্চুয়াল দুনিয়ার অলিতে-গলিতে। এই যে নীরবতার মহামারী, এই যে কথা বলার জন্য আত্মার তীব্র হাহাকার—এটাই আজকের সভ্যতার সবচেয়ে বড় ক্যানসার। এই লেখাটি কোনো পরকীয়াকে উস্কে দেওয়ার জন্য নয়। এই লেখ...

সব পুরুষ এক হয় না

সব পুরুষ খারাপ হয় না! কিছু পুরুষ সত্যিই খুব ভালো হয় যাদের ভালোবাসায় শান্তি থাকে, নিরাপত্তা থাকে। সব পুরুষ অজুহাত দিয়ে চলে যায় না, কিছু পুরুষ হাজার কষ্টের মধ্যেও প্রিয় মানুষকে আঁকড়ে ধরে রাখে। সব পুরুষ ঠকায় না! কিছু পুরুষ নিজের কষ্ট ভুলে ঠকে যাওয়া মেয়েটাকে আগলে রাখে। সব পুরুষ জীবন এলোমেলো করে না! কিছু পুরুষ অগোছালো জীবনটাকেও ধীরে ধীরে সাজিয়ে তোলে। সব পুরুষ খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কাছে আসে না, কিছু পুরুষ সুযোগ থাকলেও নারীকে সম্মান দিয়ে পাশে সরে দাঁড়ায়। সব পুরুষ দায়িত্বহীন নয়! কিছু পুরুষ সংসার, স্ত্রী, সন্তান সবকিছুর দায়িত্ব ভালোভাবে সামলায়। সব পুরুষ সুযোগসন্ধানী নয়! কিছু পুরুষ একলা মেয়েকে দেখে দায়িত্ব নিয়ে নিরাপদে পৌঁছে দেয়। সব পুরুষ জিততে চায় না! কিছু পুরুষ নিজে হেরে গিয়ে প্রিয় মানুষটাকে জিতিয়ে দিতে ভালোবাসে। পুরুষ হয়ে জন্মানোই পুরুষত্ব নয়! সত্যিকারের পুরুষ তো সেই! যে নারীকেও মানুষ মনে করে, সম্মান দেয়। যে লালসা নয়, দায়িত্বের হাত বাড়ায়। যে কথা নয়, কাজে ভালোবাসা প্রমাণ করে। যে রাগ কমিয়ে বুঝতে শেখে, আর কষ্ট বাড়িয়ে নয়, কমিয়ে দেয়। সত্যিকারের পুরুষ তো সেই! যে নিজের অহংকার সরিয়ে প্রিয় মানুষটির চো...