যেদিন প্রথম তোমার আর আমার দেখা হলো, তখন বুঝতে পারিনি যে তোমার আর আমার এই সাক্ষাত আস্তে আস্তে এতদূর পর্যন্ত আগাবে। আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যে এমন একটা ইয়ে তৈরি হবে যে হয়তো সেটা দুইজনের জীবনে একটা স্মৃতি হয়ে দাঁড়াবে।
জানো সুন্দরী। ওই প্রথম সাক্ষাতের পর অনেকটা "স্বাভাবিক" আর "অহরহ" একটা ঘটনা হিসেবে আমি নিজের স্মৃতির খাতায় লিখে ফেলেছিলাম। ভেবেছিলাম এমন তো হয়ই জীবনে চলার পথে। তারপর একদিন সন্ধ্যায় যখন তুমি আমাকে ফোন দিলে, আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, মিষ্টি কথায় আমার অবসাদের সময়টাকে কাটিয়ে দিলে, তখন ভাবতেও পারিনি ওই নিছক অহরহ ভেবে নেওয়া সাক্ষাত আর অহরহ হিসেবে নয় হয়তো কিছু একটাতে রূপ নিতে পারে।
তারপর?
সেই ফোনের আলাপ বাড়তেই থাকল। কুশল বিনিময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের ফোনালাপ বেড়ে দাড়ালো একান্ত ব্যক্তিগত কিছু শেয়ার করার বিষয়। বাড়তে থাকলো ফোনালাপের সময়সীমা।
জানো সুন্দরী? একদিন এই ফোনালাপ বেড়ে কতক্ষন পৌঁছেছিল আমাদের?? পুরো সাড়ে চার ঘণ্টা! হ্যাঁ, এতক্ষণ আমরা ফোনে গল্পঃ করেছিলাম। এইটা, ওইটা নানান বিষয় নিয়ে। জানো সুন্দরী? ওইদিনই তুমি আমাকে বলেছিলে যে তুমি কিন্তু সিঙ্গেল নও। তুমি দীর্ঘ সাত বছর যাবত অন্যের হয়ে আছো। আর তোমার জীবনে অন্য করো জায়গা হবেনা। তুমি এটাও কিন্তু বলেছিলে যে, তোমার অতীত ছিল কিন্তু সেইটা বেশিদূর এগোতে পারেনি কেননা তোমার বর্তমান তোমাকে অধিগ্রহণ করে নিয়েছে।
তবুও সুন্দরী তুমি আমাকে ফোন দিতে। তোমার স্বামী বাহিরে থাকলে আমার সাথে ফোন গল্পঃ করতে করতে হয়তো সময় কাটাতে। আমিও এটাকে টাইম পাস হিসেবেই নিয়েছিলাম। কেননা তুমি তো অন্য কারো হয়ে ছিলে। তোমার উপর ট্রাই করে লাভ নেই।
এরপর একদিন!
সুন্দরী, তুমি আমার সাথে দেখা করতে চাইলে। কেন যেন আমিও তোমার ডাকে সাড়া দিলাম। দেখা করতে রাজি হলাম। দেখা করলাম আমরা একটা ট্যুরিস্ট স্পটে। তুমি একা আসোনি। এসেছিলে তোমার স্বামীকে নিয়ে আমার সাথে হয়তো পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। আমার সাথে তখন এমনভাবে মিশে গিয়ে গল্পঃ করছিলে যেন আমি তোমার কত বছরের পুরোনো কেউ। তখনও কিন্তু বুঝতে পারিনি যে সেইটা ছিল সূচনা, আছে বাকি গল্পের উপসংহার।
সেদিন থেকে আমাদের প্রতিনিয়ত ফোনে গল্পঃ হতো। রান্না করতে করতে, ঘর গোছাতে গোছাতে কিংবা কাজ শেষ করে অবসর সময়টাতে, খেতে খেতে। এমনকি অনেকদিন এমনও হয়েছে যে তুমি আমার সাথে ফোনে গল্পঃ করতে করতে ঘুমিয়ে গিয়েছ ফোন না কেটেই। আমি হ্যালো সুন্দরী, হ্যালো সুন্দরী করছিলাম কিন্তু তোমার কোনো সাড়া শব্দ নেই। পাশে থেকে তোমার স্বামীকে বলতে হয়েছে "রেখে দেন ভাই, ও ঘুমিয়ে গেছে"। জানো সুন্দরী? তখনও বুঝতে পারিনি, তুমি ধীরে ধীরে আমার প্রতি নিজের অজান্তেই আকৃষ্ট হয়ে যাচ্ছ!!
এরপরে?
একদিন তুমি ফোন করে বললে আমার সাথে দেখা করবে। কিন্তু এবার একা! মনে মনে কিছুটা উৎসাহিত হয়ে গেছিলাম যে, সুন্দরী একা দেখা করতে চাইছে; তাহলে কি...??? কিন্তু পরক্ষণেই তোমার আগে বলা কথা মনে পড়ে গেছিল যে বলেছিলে তোমার জীবনে বর্তমান গ্রাস করে বসে আছে অন্য কারো সুযোগ নেই। তাই আর সেইটা ভাবিনি। কিন্তু তখনও সি আঁচ করতে পারিনি সুন্দরী যে, তোমার মনে হয়ত অন্য কিছু চলছে!
আমরা দেখা করলাম, মার্কেটে ঘুরলাম, তুমি কিছু কিনলে, তোমাকে বন্ধু হিসেবে আমিও হেল্প করলাম কিনতে। আমরা দুপুরে খেলাম। তারপর সরাসরি দুজন দুজনাতে একাকী বসে নানান গল্পঃ করলাম। জানতে পারলাম তুমি টিকটক ভিডিও করো, ভ্লগ করো। তাই আমিও চাইলাম যে তোমার মত সুন্দরীর সাথে ভিডিও করতে। তুমিও রাজি হয়ে গেলে। স্টিল ছবি আর সেলফি এর পাশাপাশি অনেকগুলো ভিডিও বানিয়ে গেলাম আমরা। ভুলেই গিয়েছিলাম যে তুমি অন্য কারো সাথে কমিটেড, তোমারও সেটা খেয়ালে ছিল না। ঘোরাঘুরি শেষে আমিই ইনসিস্ট করলাম তোমাকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে, কি ভেবে তুমিও আপত্তি করলে না। পাশাপাশি বসে দুজনে গল্পঃ করতে করতে বাসে উঠে চলতে লাগলাম তোমার বাসা অব্দি। আমি তো চাইছিলামই, হয়তো তুমিও চাইছিলে আমাদের এই একে অন্যের একাকী এই সান্নিধ্য যেন শেষ না হয়ে যায়। কিন্তু দিন শেষে তুমি অন্য কারো এই চরম সত্যি টা গ্রহণ করা ছাড়া উপায়ও ছিল না কারোই। চেহারায় একটা উদাসীনতা নিয়ে যখন তোমাকে তোমার বাসার গেট পর্যন্ত নিয়ে গেলাম আর সেই উদাসীনতা নিয়ে যখন আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভিতরে চলে গেলে, হেঁটে হেঁটে, তোমার চলার পানে তাকিয়ে ছিলাম জানো? তুমি লোকলজ্জার ভয়ে আর পিছনে ফিরে তাকাওনি। বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছিল তখন।
বাসায় নিজের রুমে ঢুকে হয়তো ফ্রেশ হচ্ছিলে তুমি আমি বুক ভরা এই উদাসীনতা আর কিছু একটা চলে গেল এমন হাহাকর্ময় মুড নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। বাড়ি ফিরে ফোনের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছিলাম জানো যে তুমি কখন ফোন দিবে আবার! আচ্ছা সুন্দরী? এইটা কি প্রেম?? যেটা আমি অনুভব করছিলাম? আচ্ছা তুমিও কি সেম জিনিসটি অনুভব করছিলে??
সেদিন তুমি আমাকে ফোন দিয়েছিলে অনেক রাতে। সারাদিন কি কি করলাম তার বর্ণনা করে এক আধটু হাসাহাসি করছিলে। আমিও তোমার ফোন পেয়ে খুশি হয়েছিলাম। ঠিক আগের মতোই ফোনে গল্পঃ করতে করতে তুমি যখন ঘুমিয়ে পড়েছিলে তোমার স্বামী ঠিক আগের দিনের মতোই বলেছিল যে তুমি ঘুমিয়ে গেছ। সেইদিন হয়তো আমি অন্য মানসিকতায় ছিলাম। তাই ফোনটা সঙ্গে সঙ্গে কাটিনি, কেটেছি দুই মিনিট পর। কেন জান? তোমার হৃদস্পন্দন শুনছিলাম। কারণ হয়তো তুমি তোমার ফোনটা বুকে চেপে ধরে ঘুমিয়ে পড়েছিলে।
সেদিন থেকে আমাদের একাকী সাক্ষাত করা একটু যেন বেড়ে যায়। একদিন শপিং তো অন্যদিন যে কোনো কাজ। তেমনি একদিন তুমি আমাকে নিয়ে তোমার ইউনিভার্সিটি নিয়ে গেলে। টিউশন ফিসের বিষয় কথা বলতে। বললাম। সব বুঝে শুনে তাদের সাথে কথোপকথন করলাম। সবাই ভেবে নিয়েছিল যে আমিই তোমার স্বামী। কিন্তু তুমি আমাকে ভাই বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলে যেন কেউ অন্য কিছু ভেবে না বসে। আমি তোমার স্বামী এটা শুনে তোমার চেহারায় একটা আজব ঝিলিক লক্ষ্য করেছিলাম জানো? তখনও তোমার মনে কি চলছে টা আন্দাজ করতে পারিনি সুন্দরী। বরাবরের মত তোমাকে বাসা অবধি পৌঁছে দেওয়ার জন্য উৎসাহী ছিলাম কিন্তু সেদিন আর গেইট পর্যন্ত যায়নি। কেননা তুমি বারণ করেছিলে এইটা ভেবে যে লোকে কানাঘুষা করতে পারে আমাদের নিয়ে। হয়তো এইটা তোমার স্বামীর কানে অব্দি গেলে তোমার সমস্যা হতে পারে, এইটা ভেবে আর ইন্সিস্ট করিনি।
আমি পার্ট টাইম কাজ করতাম। তাই আমার সাথে কাজে যাওয়ার জন্য তোমার অনেক অনেক মন উৎফুল্ল হয়ে থাকত। হয়তো আমার সাথে কাজে যাওয়ার উছিলায় আমার সাথে বা আমার আশেপাশে থাকার একটা সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইতে না। একদিন তোমাকে আমার সাথে নিয়ে গেলাম কাজে। তাও তুমি একা। প্রথমদিন কাজ করে মজা পেয়ে আমার সাথে দ্বিতীয় আরেক দিনও গেলে। পরে একদিন তোমার অনুরোধে তোমার স্বামীকেও নিয়ে গেলাম কাজে যেন সেও দেখে আমরা কিভাবে কি করি। তবে তোমার বুদ্ধি এতো প্রখর ছিল যে তোমার স্বামীকেও নিয়ে আসতে চাইতে সমসময়ে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তুমি আমার সান্নিধ্যে থাকতে পারো আর এতে করে যেন অন্য কেউই কিছু বলতে বা ভাবতে না পারে। জানো সুন্দরী, তখন হয়তো আমি একটু আধটু আঁচ করতে পারছিলাম যে, তোমার মনে কিছু একটা চলছে। এটাও আঁচ করতে পারছিলাম যে তুমি হয়ত কিছু একটা বলতে চাইছ আমাকে।
তারপর একদিন সুন্দরী,
তুমি কাজ শেষে সময় করে তুমি আর তোমার স্বামী বাহিরে গেলাম। তোমার কি একটা হারিয়ে গেছে সেই কারণে পুলিশে জিডি করতে এলে থানায়। আমাকেও নিয়ে। তুমি তোমার স্বামীকে ভিতরে পাঠিয়ে দিলে সঙ্গে গেলে নিজেও। আমাকে বাহিরে থাকতে বললে। পাঁচ মিনিট পর তুমি একা বেরিয়ে এলে বাহিরে। আমাকে নিয়ে একটু দূরে সরে এলে বললে যে থানার গেইট থেকে দূরে দাঁড়াই যেন পুলিশ আবার কিছু মনে না করে। সরে এলাম দূরে, সেদিন কথার ছলে ছলে তুমি উদাস মনে বললে যে তুমি তোমার এই বিয়ে নিয়ে একটু হতাশ। কারণ জানতে চাইলে অনেক কিছুই তুলে ধরলে, পারিবারিক অসম্মতি, তোমার স্বামীর জোর করে তোমাকে বিয়ে করা, কাজ না করা, শ্বশুর বাড়ি আর বাপের বাড়ির মধ্যে অমিল, টাকা না থাকায় লোন করে দেশের বাহিরে আসা ইত্যাদি। তার মধ্যে সবচেয়ে মুখ্য যেটা বললে তোমাদের বাচ্চা না হওয়া।
জিজ্ঞেস করেছিলাম। কারণ হিসেবে জানতেও চেলাম যে সুন্দরী, তোমার কোনো জটিলতা বা কিছু। কিন্তু প্রায় কান্নারত ভঙ্গিমায় বললে যে তোমার স্বামী বাচ্চা দিতে অক্ষম। অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েও নাকি কাজ হয়নি। তাই বিয়ের সাত বছরের বেশি পেরিয়ে গেলেও তোমাদের বাচ্চা হয়নি। তুমি মা হওয়ার স্বাদ পাওনি।
এইটা বলে যখন আমার কাঁধে কপাল ঠেকিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলে, তখন আমি সত্যিই একটা গোলক ধাঁধায় পড়ে গেছিলাম। কি করা উচিৎ। জাস্ট তোমার কাঁধে হাত রেখে হালকা কণ্ডলেন্স দেওয়া ছাড়া কিছুই করার মত ছিল না। ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না যে কি বলব যে কি করা উচিৎ।
তোমার এই অবস্থা আমাকে একটু হলেও কেন যেন তোমার প্রতি আরো আকৃষ্ট করে ফেলছিল। জাস্ট তখন তোমাকে নিয়ে পাশের সিঁড়িতে তোমার পাশে বসে শুধুমাত্র সান্ত্বনা দিতে পেরেছিলাম। বলতে পেরেছিলাম যে, সব ঠিক হয়ে যাবে দুআ করো। কিন্তু তুমি শান্ত হতে পারছিলে না, আমিও করতে পারছিলাম না। তোমার মন আকৃষ্ট করার জন্য টিকটক ভিডিও করেছিলাম ঠিক। কিন্তু কাজ হয়নি। কারণ বলতেও পারছিলাম না যে তাহলে কেন তুমি এই বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছো এখনো। কেননা তোমার নতুন সম্পর্কে যাওয়ার প্রতি অনিচ্ছা যেটা আমাকে বলে দিয়েছিলে সেইটা আমার কানে শব্দ করছিল।
সুন্দরী জানো? সেদিন থেকে তোমার প্রতি আমার অন্যরকম একটা আকর্ষণ কাজ করতে লেগেছিল। এরই মধ্যে অনেকেই তোমার কানে আমার নামে নানান কথা শুনিয়ে বেড়াচ্ছিল। আর আমার প্রতি তোমার রাগ জাহির করা আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে হয়তো তুমি সন্দেহ করছিলে যে তোমার ঐ একান্ত ব্যক্তিগত কথা যেটা শেয়ার করেছিলে আমি সেটা কাউকে বলে দেইনি তো!
বিশ্বাস কর সুন্দরী। তোমার প্রতি আমার মনে এই অনুভূতি যেইটা তুমি নিজেই তৈরি করেছিলে সেইটা রক্ষা করার নিমিত্তে তোমাকে অন্য চোখে দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম। অন্য ছেলের সাথে তোমার মেশাটাও যেন শুলের মত বিধা শুরু করে দিয়েছিল। এমনকি তোমার স্বামীর সাথে তোমার মেশাটাও। আর তাই আমি চাইতাম বারবার তোমাকে প্রোটেক্ট করতে। জানিনা কতটুকু প্রোটেক্ট করতে পেরেছিলাম তোমাকে এটা জানা সত্বেও যে তোমার স্বামী তোমার কাছেই আছে।
ভেবো না সুন্দরী। আমি জানি আমার সীমাবদ্ধতা। সুন্দরী তুমি বিবাহিতা হয়েও এইযে আমাকে আপন ভেবে আমার সাথে মিশেছো, আমাকে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত কিছু না পাওয়ার কথা এইভাবে শেয়ার করেছো, আমার সামনে এসে ডুকরে কেঁদে দিয়ে নিজের মনের কথা প্রকাশ করে, এইটাই আমার কাছে অনেক। কেন করেছো সেইটা হয়তো আমার নিকট ঝাপসা ছিল তখন; কিন্তু যদি আমার সহমর্মিতা, আমার সান্নিধ্য, আমার স্পর্শ বা তোমার প্রতি আমার অন্যরকম ভালোলাগার সেই ছোঁয়া তোমার কাম্য ছিল, অন্তত একটু ক্লু দিতে পারতে আমাকে। দেখতে আমি কেমনভাবে তোমাকে সাপোর্ট দিতাম।
যাই হোক সুন্দরী;
হয়ত তোমার সেই নীরব আহ্বান আমি বুঝতে পারিনি এই জন্য তুমি আমার উপর ক্ষিপ্ত হতে শুরু করে দিয়েছিলে। তুমি নীরবে আমাকে ডাকছিলে তোমার দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য কিন্তু আমি পা বাড়াইনি। কেন জানো? কেননা তুমি ইতিমধ্যে বিয়ের ডোরে আবদ্ধ ছিলে, অন্য কারো হয়ে ছিলে, আর তুমি নিজেই আমাকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলে যে তুমি অন্য ঘরের বউ।
যখন তুমি আর আমি একা বাহিরে ঘুরতাম, তোমার স্বামী কাজে বা কোনো কারণে দূরে থাকত। তুমি আসতে, মিশতে আমার সাথে, আমার সান্নিধ্য উপভোগ করতে। তাইতো কখনও পরীক্ষা দেওয়ার বাহানায়; কখনও কেনাকাটা করার বাহানায়; এমনকি তোমার ক্লাশ আছে, তুমি একলা কিভাবে যাবে এই বাহানায় আমাকে ডাকতে আমি যেতাম তোমার সাথে, তোমাকে সঙ্গ দিতে। তোমার ক্লাসেও গিয়েছি, তোমার পাশে বসেছি। তুমি তোমার ক্লাসমেটের সাথে গল্পে মশগুল থাকতে, ক্লাসে মনোযোগী থাকতে আমি তোমার পাশে বসে থাকতাম। সত্যি বলতে তোমার সান্নিধ্য আমিও উপভোগ করতাম। তুমিও করতে নিশ্চই? বলো সুন্দরী??
সত্যি করে বলো তো? তোমার কাছে যখন থাকতাম, তোমার সাথে যখন কথা বলতাম, তোমাকে স্পর্শ করতাম এইটা বলে যে এইটা আমার বদভ্যাস, তোমার পাশে প্রায় তোমাকে ঘেঁষে বসে থাকতাম, পার্ট টাইম কাজে তোমাকেই আমার পার্টনার বানাতাম, তোমাকে প্রোটেক্ট করতে চাই সেই বাহানায় তোমার আশেপাশে ঘুরঘুর করতাম; তোমার ভালো লাগতো না? উপভোগ করতে না?? মনে মনে আমার এই কাছে থাকাটা যেন শেষ না হোক সেইটা কামনা করতে না??? ভাবতে না যে ইশ যদি আমি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ না থাকতাম তাইলে এই কাছে থাকাটা সর্বদাই থাকত???? বলো ?????
এইটা আমার নিছক কল্পনা বা হ্যালোসিনেশন বলে উড়িয়ে দিতে বললে হয়তো দিতাম। কিন্তু যতবারই সেটা করেছি ততবারই সেই তুমিই ছিলে যে কিনা পইপই করে বলতে, এইটা হ্যালোসিনেশন নয়, বরং সত্যি! কল্পনায় নয় এই অনুভূতি টা বাস্তবে। কিন্তু তুমি সামনে আসতে পারছিলে না কেননা তুমি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ।
মনে পড়ে? একদিন কিন্তু আমি বলেই দিয়েছিলাম যে তোমাকে আমার খুব ভালোলাগে। কেননা কোনো এক কারণে তোমার স্বামী সন্দিহান হয়ে হয়তো তোমাকে দিয়ে জিজ্ঞেস করিয়েছিল যে, আমি কেন তোমার পিছনে পড়ে আছি। তখন বলেছিলাম তোমাকে আমার ভালো লাগে। সেই লেভেলের ভালো লাগে। বলতে পারো তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
এইটা বলার পর ভেবেছিলাম তুমি হয়তো আরো ক্ষেপে যাবে, আর ক্ষেপে গিয়ে হয়তো আমাকে চড় মেরে বসবে, কিন্তু না। তুমি চুপ ছিলে। নীরব হয়ে গেছিলে। সেই নীরবতা আমাকে বলে দিয়েছিল অনেক কথা। যেইটা তোমার মুখে তুমি প্রকাশ করতে পারছিলে না।
তোমার বাধ্যগত পরিস্থিতি আমি বুঝি সুন্দরী। এখনো তুমি এই কথাগুলো ভাবো। এখনো। আমি জানি! যদিও আমাদের মাঝে নানান ঝড় ঝাপটা গেছে। তৃতীয় পক্ষের নানা মানুষ বলেও দিয়েছে তোমার আর আমার মধ্যে যেটা চলছে এইটা হতো পবিত্র প্রেম। সেটার সূচনা তুমি নিজেই করেছ। তোমার স্বামী সংসারের ভয়ে, জগতের ভয়ে, পরিবারের ভয়ে সেইটা গ্রহণ করোনি, করতে পারোনি। কবুল করতে পারোনি। বরং বারবার বারবার আমাকে সাপোর্ট করে গেছিলে। এমনকি লোকের কথায় একদা ক্ষেপে গিয়ে তোমার স্বামী আমাকে ভুল বুঝতে শুরু করে দিয়েছিল তখনও আমার পক্ষে কথা বলেছিলে।
মনে পড়ে তোমার ছবি আমি একটা অপ্রচলিত গ্রুপে দিয়েছিলাম? আমাকে ফোন করে আমার সম্পৃক্ততা যাচাই করতে চেয়েছিল? অবশেষে নানা জল্পনা কল্পনা শেষে আমার সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে আর তুমি তোমার স্বামী অন্য কাউকে নিয়ে আমার বাসায় গেছিলে? তোমার স্বামী আমাকে মারতে তেড়ে আসছিল আর তুমি তাকে আটকে ধরে রেখেছিলে যেন আমাকে না মারে বা আমার গায়ে যেন একটুও আঁচড় না লাগে? তখন আমি মনে মনে হেসে দিয়েছিলাম, জানো?
এটা তখন হয় যখন কোনো মেয়ে সামনে বসে থাকা ছেলেটার প্রতি চরমভাবে, মনেপ্রাণে দুর্বল থাকে; মুখ ফুটে বলতেও পারেনা; অভিমান করে যে এই কাজ কেন করলাম স্পষ্ট করে কেন বলিনি। আমার আম্মুর সাথে কথা বলে আমাকে আরেকটা সুযোগ দেওয়ার কথায় টাস করে রাজি হয়ে গিয়ে আমাকে মাফ করে দিলে আর আমাকে নিয়ে নাশতা করলে বাহিরে...
তবুও ফোনে আমার সাথে আলাপ, আমার সান্নিধ্য কামনা, আমার সাথে গল্পঃ করা তোমার একটুও কমেনি। এই কারণে স্বামীর হাতে তুমি মার পর্যন্ত খেয়েছ! বিচার দিয়েছ যে, সে ঘুষি দিয়ে চায়ের টেবিল ভেঙে ফেলেছে তোমাকে না মেরে। কিন্তু তোমাকে আমার প্রতি তোমার দুর্বলতা থেকে বের করে আনতে পারেনি। বারবার মার খেয়েছো শুধুমাত্র আমার কারণে, কষ্টে বলেছো যে এই মার খাবার একটিই মাত্র কারন সে তোমার মনে আমাকে তুমি গ্রাস করে বসে আছো কিন্তু বলতে পারছ না আর সইতেও পারছ না।
আমাকে তোমার পুরোনো বাসায় নাওনি কখনও কারণ তোমার শ্বশুর বাড়ির পরিচিত লোকেরা আনাগোনা করতো তাই। এই জন্য নতুন বাসায় উঠেই হন্যে হয়ে অপেক্ষা করছিলে কখন তোমাদের বাসায় যাই আমি। তবুও মেয়েলি স্বভাবে অপেক্ষায় ছিলে যে আমি যেন আবদার করি। করেছি ও। বাসায় তোমাদের বিয়ের বার্ষিকীতে আমার দাওয়াত ছিল কিন্তু আমি কাঙ্ক্ষিত তারিখে থাকতে পারবো না বিধায় আগে ভাগেই দাওয়াত আয়োজন করে আমাকে দেখে ফেলেছিলে তাও সকাল সকাল। যেন তোমার কাজে হেল্প করতে পারি, তোমার সান্নিধ্যে থাকতে পারি। নিজের বিছানায়ও আমাকে শুতে দিয়েছিলে রেস্ট করার জন্য, নিজের তোয়ালে দিয়েছিলে মোছার জন্য। তারপর রাতে বেলা বাসায় যেতে পারবো না দেখে রাতে থাকতে চেয়েছিলাম রাজি হয়ে গিয়েছিলে।
আমার কথা প্রতিটা আবদারে সাড়া দিচ্ছিলে তুমি সুন্দরী। তোমাকে "সুন্দরী" বলেই ডাকতাম সেইটা তুমি প্রানভরে, কানভরে উপভোগ করতে। এমনকি আমি তোমার নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দিতেনা। সুন্দরী মানে, সুন্দরী। তোমার প্রতিটা একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য আমাকে জানিয়ে দিয়েছিলে যেইটা তাকেই মেয়েরা জানায় যাকে সে একান্ত আপন হিসেবে গ্রহণ করে নেয়।
এমনকি যখন হোয়াটসঅ্যাপে তোমার ছবিতে মিম বানিয়ে তোমাকে পাঠাতাম, তুমি নীরবে হাসতে। এই দুঃসাহসিক ভাবে ছবি নিয়ে মিম বানিয়ে পাঠানতা উপভোগ করতে। স্প্যাম হয়ে যাওয়ার মত একাধারে ১৫-৩০ টা মেসেজ আসতো তোমার ফোনে খালি মিম নিয়ে তোমার ছবিতে, তুমি তাও বিরক্ত হতে না। পড়তে, দেখতে, হাসতে, কিন্তু ফোন থেকে ডিলিট করে দিতে যেন তোমাকে পাঠানো আমার মেসেজ কেউ দেখতে না পারে। এমনকি তোমার স্বামীও না। কি ভেবেছ? আমি কিভাবে জানি? এগুলো জানতে মন লাগে, আর কিছুনা!
তোমাদের ছেড়ে যেদিন বাংলাদেশ চলে আসব সেদিন দুপুরে কেমন পরমাদরে আমাকে দুপুরের খাবার খাইয়ে দিয়েছিলে। তোমার চেহারায় সেদিন হতাশার ছায়া দেখতে পেয়েছিলাম। কিছু একটা দূরে সরে যাচ্ছে। আমি দূরে চলে যাচ্ছি। তোমার চোখ বলছিল আমাকে যেন আমি তোমাকে ছেড়ে না যাই। চাইছিলে তুমিও যেন আমার সহযাত্রী হও, স্বামী সংসারের বোঝা ত্যাগ করে আমার সাথে চলে আসো। কিন্তু বাস্তবতায় তুমি তো আমাকে তোমার মনের কথা বুঝতেই দাওনি কোনোদিন। কিভাবে কি বলতে। জাস্ট বলেছিলে আবার যেন যাই, তোমার কাছে, কিন্তু একটু আন্দাজ পাল্টে, যেন তখন মুখ ফুটে বলে দেই।
বাংলাদেশ এসে পড়ার পরও কিন্তু তুমি আমাকে ভোলোনি। নিয়মিত ফোনালাপ চালিয়ে যাচ্ছিলে। তোমার স্বামীও কিছু বলতো না জানিনা কিভাবে ম্যানেজ করেছিলে। খুব মুখে বলতে আমি দূরে চলে এসেছি আমার কোনো প্রয়োজন নেই তোমার কিন্তু তবুও দিনে একবার হলেও আমাকে কামনা করতে।
একদিন তোমাকে তোমার নাম ধরে ডেকেছিলাম। উত্তরে কি বলেছিলে মনে আছে? "কি ব্যাপার আজকে হঠাৎ নাম ধরে? আমি না আপনার সুন্দরী..??"। এই একটা কথাই আমাকে উপলব্ধি করিয়ে দিয়েছিল তুমি আমাকে মিস করছিলে অনেক।
আমার ফোনে তোমার কাদি কাদি ছবি, তোমার সাথে করা ভিডিও, তোমার সব পার্সোনাল তথ্য সবকিছু আছে তবুও তুমি কখনোই নিজ থেকে বলতে না ঐগুলো মুছে ফেলতে। জাস্ট স্বামী সংসারের ভয়ে বলতে মুছে ফেলার কথা। কিন্তু কখনও নিজে হাতে নিয়ে মোছার চেষ্টা করনি। কিছু ভিডিও ও ছিল যে তোমার স্বামীর সামনেই অজান্তে তোমার ভিডিও রেকর্ড করেছি। তুমি বুঝতে পেরেছিলেও কিন্তু কিছু বলনি স্বামীর সামনে। বলেছ পরে। এই ভিডিওগুলো এখনো আছে আমার কাছে জানো? রেখে দিয়েছি স্মৃতি হিসেবে। যেন যদি কোনোদিন তোমার কথা মনে পড়ে ঐগুলো দেখেই যেন মনকে প্রফুল্ল রাখতে পারি!
আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এতবারই হয়েছে যে, আমিও অভ্যস্ত হয়ে গেছিলাম। কিছুদিন বিমুখ হয়ে তুমি নিজ থেকেই আবার সাড়া দিতে। বাংলাদেশে তোমার বাসার ঠিকানাও দিয়ে রেখেছ যেন দেশে আসলে আমার সান্নিধ্য দিতে যেন যাই তোমার কাছে।
সত্যি বলতে কি জানো সুন্দরী। তোমার সংস্পর্শ, তোমার সান্নিধ্য, তোমার আশেপাশে ঘুরঘুর করে বেড়ানো যেমন তুমি উপভোগ করতে আমিও করতাম। তুমি যেমন সেটা ভুলতে পারনি, আমিও না। আমার বিয়ের কথা শুনে তুমি যেমন পারলে উড়ে চলে আসার কথা বলো আমিও চাই যে তুমি উড়ে চলে আসো আমার কাছে।
সুন্দরী! যেই বিয়েতে তোমার চাওয়া পাওয়ার ১০০% পূরণ হয়নি। আর হবেও কিনা সন্দিহান, সেই বিয়ের ডোরে আবদ্ধ থেকে নিজেকে কষ্ট না দিয়ে আমি মনে করি মুক্ত হয়ে যাওয়া বেটার সুন্দরী। হয়তো তুমি বিবাহিতা না হলে তোমাকেই আমি নিজের করে নিতাম, যেইটা তোমাকেও বলেছি। সে তো সম্ভব নয় তবে সুন্দরী; তোমাকে আমি আমার পাশে চাই।
একবার হলেও তোমাকে আমি আমার করে পেতে চাই সুন্দরী! তোমার ইশারা ইঙ্গিতে বলে দেওয়া কথাগুলো বাস্তবে তোমার মুখে শুনতে চাই। তোমার স্বীকারোক্তি জবানবন্দি শুনতে চাই যে হ্যাঁ, আমাকে নিয়ে যেটা ভাবতেন, যেটা অনুভব করতেন, যেইটা দেখতেন, যেইটা অবচেতন মনে শুনতেন সব সত্যি। সব বাস্তবই ছিল। শুধু এই আমিই বুঝে উঠতে পারিনি। সব তোমার মুখে শুনতে চাই, তোমার স্বজ্ঞানে তোমার সান্নিধ্য পেতে চাই।
সুন্দরী! দিবে কি তুমি তোমার সান্নিধ্য আমাকে? আরেকটিবার? নিজের স্বজ্ঞানে? নিবে কি আমার সান্নিধ্য নিজের স্বজ্ঞানে? এই সমাজ, সংসারের তোয়াক্কা না করে?
তোমার উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো সুন্দরী।
ইতি,
তোমারই অব্যক্ত কিন্তু তোমার মান্য করে নেওয়া সেই মানুষটি।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন